১১ জুলাই ২০২৬ - ১৮:২৪
বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা: প্রতিশোধ আমাদের জাতিয় দাবি।

বিপ্লবের শহীদ নেতার শেষকৃত্য ও দাফন উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেন: "আমরা এই শহীদ নেতা এবং এই দুটি যুদ্ধের সকল শহীদের পবিত্র রক্তের বদলা অপরাধী ও কলঙ্কিত ঘাতকদের কাছ থেকে নেওয়ার অঙ্গীকার করছি; এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই কার্যকর করা হবে।"

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বিপ্লবের শহীদ নেতার জানাজা ও দাফন উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেন: "আমরা এই দুই যুদ্ধের শহীদ নেতা ও সকল শহীদের পবিত্র রক্তের বদলা অপরাধী ও কলঙ্কিত ঘাতকদের কাছ থেকে নেওয়ার অঙ্গীকার করছি; এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই কার্যকর করা হবে।"

বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর বার্তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য নিচে দেওয়া হলো:

«‌بسم‌ الله ‌الرّحمن الرّحیم

السَّلامُ‌ علیکَ یا ثاراللهِ وَ‌ ابنَ ثاره وَ الوِترَ المَوتور. السَّلامُ‌ علیکَ وَ علی جَدِّکَ وَ اَبیکَ وَ اُمِّکَ وَ اَخیکَ وَ المَعصومینَ مِن وُلدِک.

সেই ইমামের প্রতি সালাম, যাঁর বিপ্লবের প্রাণসঞ্চারী আহ্বান ইতিহাসের পাতায় মহানবী (সা.)-এর মিশনের এক শক্তিশালী ও জোরালো প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে দিয়েছিল—যে প্রতিধ্বনি ইরানে ইসলামি বিপ্লবের জন্ম দিয়েছিল। এটি ছিল এমন এক বিপ্লব যা মূলত ইমাম হুসাইনের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁরই স্লোগান ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল ও বিকশিত হয়েছিল।

ইরানের সেই শহীদ নেতাও এই আদর্শকে ধারণ করেই বেড়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের অনুসারী; তিনি ইমাম হুসাইনের চেতনাতেই চিন্তা করতেন, কাজ করতেন, জিহাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন এবং জীবন অতিবাহিত করতেন; আর পরিশেষে, সেই একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ইমাম হুসাইনের আদর্শের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এবং শাহাদাত বরণ করেন।

হোসাইনী অনুসারীদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন—যাদের রক্ত, যা ইমাম হোসাইনের পথে এবং তাঁর আদর্শ ও বিশ্বাসের খাতিরে অন্যায়ভাবে ঝরেছিল—তা সমগ্র ইসলামি উম্মাহকে উজ্জীবিত করে তোলে এবং সেই মুহূর্তকে আশুরার সাথে ও সেই স্থানকে কারবালার সাথে সংযুক্ত করে।

আজ, সেই একই হোসাইনী উদ্দীপনা আমাদের জাতিসত্তায় এক আধ্যাত্মিক নবজাগরণ ঘটিয়েছে এবং মহান খোমেনি ও শহীদ খামেনেয়ীর শিক্ষাদর্শে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

এটিই সেই প্রাণসঞ্জীবনী জাগরণ—যা হোসাইনের ওপর চালানো নিপীড়নের আর্তনাদ এবং তাঁর সেই আহ্বান—"আমার সাহায্যে এগিয়ে আসার মতো কি কেউ আছে?"—এর প্রতিধ্বনি থেকে উৎসারিত হয়ে ইরান, ইরাক ও তার সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মিথ্যার ভিত্তিমূলকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। এই উপলক্ষ্যে, ইরান ও ইরাকের শহর ও গ্রামজুড়ে—বিশেষ করে তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদে—কোটি কোটি মানুষের যে বিস্ময়কর, ঐতিহাসিক ও শত্রুর দম্ভ চূর্ণকারী জনসমাগম ঘটেছে, তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করা অত্যন্ত যথার্থ।...

আমাদের জাতি ইমাম হুসাইনের রক্তের বদলা বা ন্যায়বিচার চায়। বছরের পর বছর ধরে এই মহান জাতি হুসাইনের জন্য এবং তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিজেদের সন্তানদের উৎসর্গ করে এসেছে; আর আজও তারা তাঁর রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং সমকালের হুসাইনিদের রক্ষক ও সমর্থক হিসেবে অটল রয়েছে।

এখন আমি আমাদের শহীদ নেতার উদ্দেশে বলছি: হে নির্যাতিত শহীদ! হে মহৎ ও নিপীড়িত আত্মা! হে আল্লাহর একনিষ্ঠ ও ন্যায়পরায়ণ সেবক! অশ্রুসজল চোখে ও ব্যথিত হৃদয়ে আপনার পার্থিব দেহকে বিদায় জানানোর এই মুহূর্তে আমরা অঙ্গীকার করছি যে, আমরা আপনার আদর্শকে সমুন্নত রাখব; আপনার নির্দেশিত সঠিক পথে অবিচল থাকব; যাত্রাপথের কোনো প্রতিকূলতাকেই ভয় পাব না; এবং আপনার মতোই ঐশ্বরিক বার্তা ও প্রতিশ্রুতির ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখব।

আমরা প্রতিজ্ঞা করছি যে, আপনার এবং এই দুই যুদ্ধের সকল শহীদের পবিত্র রক্তের বদলা আমরা সেই অপরাধী ও কলঙ্কিত ঘাতকদের কাছ থেকে আদায় করব।

প্রতিশোধের এই পদক্ষেপটি আমাদের জাতিরই অভিপ্রায় এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে। শীর্ষস্থানীয় থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের—যাদের সবার নামই নথিবদ্ধ রয়েছে—সেই অপরাধীরা নিজেদের বিছানায় শুয়ে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুর যে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তা অপূর্ণ রেখেই কবরে যাবে। তাদের এটা উপলব্ধি করতে হবে যে, এই বিষয়টি আমার কিংবা অন্য কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতির ওপর নির্ভর করছে না।

আমরা থাকি বা না থাকি, এই ঘটনা ঘটবেই; এবং অচিরেই বিশ্বজুড়ে স্বাধীনচেতা মানুষরা প্রত্যেকেই এই ঐশ্বরিক অভিযানের একেকটি অংশ বাস্তবায়ন করবে।

হে জাতির শহীদদের পিতা, শাহাদাতের যে সুধা পানের আকাঙ্ক্ষা আপনি আজীবন লালন করেছেন, তা যেন আপনার ওষ্ঠে সুমিষ্ট হয়ে ওঠে। শাহাদাতের সেই পবিত্র আলখেল্লা পরিধান আপনার জন্য ধন্য হোক—যে দেহে আপনি বহন করছেন। আপনার মা হযরত যাহরা (সা.আ.), আবা আবদিল্লাহ-হুসাইন এবং আবা আল-ফাদল আল-আব্বাস (আ.)-এর বংশধারার সেই মহিমান্বিত চিহ্ন।

আর হে তাঁর সেই নিপীড়িত সঙ্গীরা, যারা শত্রুর অতর্কিত হামলার শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন: আপনারা ধন্য; কারণ আপনারা এখন সেই মহান প্রভুর অতিথি, যাঁর অসীম করুণা ও অনুগ্রহ আপনারা হয়তো বারবার অনুভব করেছেন। সেই প্রভু—যিনি সকলের জন্য, এবং বিশেষ করে এই ভূখণ্ডের মানুষের জন্য ঐশ্বরিক রহমতের প্রবেশদ্বার—তিনিই এখন আপনাদের আতিথ্য প্রদান করছেন এবং তাঁর শান্তির আলয়ই এখন আপনাদের আবাসস্থল।

আর হে মহান ইমাম! হে অভিজাত সত্তা! হে দয়ালু ইমাম—হে আবুল-হাসান আলী ইবনে মুসার রেযা (আ.) আজ আপনার পবিত্র সান্নিধ্য ও বংশধারার এক সেবকের ক্ষতবিক্ষত দেহাবশেষ—তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের মরদেহের পাশাপাশি, যাঁদের প্রত্যেকেই কারবালার প্রান্তরের কোনো না কোনো শহীদের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে—এই পবিত্র মাটিতে সমাহিত হলো। এখানে তাঁরা চিরনিদ্রায় শায়িত থাকবেন সেই দিন পর্যন্ত—যেদিন সৃষ্ঠিকর্তার আদেশে বিশ্ব-আলোকিতকারী সূর্য—অর্থাৎ মহামান্য বাকিয়াতুল্লাহ (আ.ফা.)—অনুপোস্থিতির মেঘপুঞ্জ ভেদ করে উদিত হবেন এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের ওপর বর্ষণ করবেন ঐশ্বরিক করুণার আলোকচ্ছটা।

সেই দিনটিতে—যা খুব শীঘ্রই আসবে বলে আমরা আশা করি—পরম শ্রদ্ধেয় সেই ব্যক্তিত্বের সঙ্গী হবেন সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সাধু-সন্তদের মধ্য থেকে উঠে আসা মহান সব ব্যক্তিত্ব; আমরা আশা করি, আমাদের সেই শহীদ নেতাও তাঁদের মধ্যে থাকবেন এবং পবিত্র সংগ্রাম ও আদি অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল বিশ্বস্ততার এক উজ্জ্বল ও নির্মল দৃশ্য পুনরায় তুলে ধরবেন; আর সম্ভবত সেদিনও এই সঙ্গীরা তাঁর পাশে এসে দাঁড়াবেন।

হে দয়ালু ইমাম (ইমাম রেযা)! আমাদের নেতা—যিনি আপনার মহান উদ্দেশ্যের জন্য তাঁর সমগ্র সত্তা উৎসর্গ করেছিলেন—এবং তাঁর শহীদ সঙ্গীদের আমরা আপনার এবং আপনার অনুগ্রহ ও দয়ার ওপর ন্যস্ত করছি; পার্থিব জীবনে তাঁরা যেমন আপনার অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন, তেমনি তাঁরা যেন তা অব্যাহত রাখেন—বরং আরও অধিক ও মহিমান্বিত মাত্রায় তা লাভ করেন।

পরিশেষে, আমরা পুনরায় আমাদের নেতা হযরত বাকিয়াতুল্লাহর (আ.ফা.) নিকট শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং সেই মহান ব্যক্তিত্বের কাছে বিনীত প্রার্থনা জানাচ্ছি যেন তিনি ইরানের শহীদ নেতা, তাঁর শহীদ সঙ্গী-সাথী এবং সকল শহীদের জন্য তাঁর পবিত্র দোয়া ও প্রার্থনা নিবেদন করেন।

আমরা সর্বশক্তিমান—যিনি মহিমান্বিত ও মহান—তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি শহীদদের উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তাঁদের স্বজনদের ধৈর্য ও প্রতিদান প্রদান করেন এবং ইরানের নিপীড়িত জাতিকে চূড়ান্ত ও আসন্ন বিজয় নসিব করেন; ইন শা আল্লাহ।

সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী

২০ তীর-১৪০৫/ ৯ জুলাই, ২০২৬

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha